Wellcome to National Portal
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

পিডিইউ এর ইতিহাস ও কার্যাবলী

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের চা শিল্প মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

এর ফলস্বরূপ, উচ্চ উৎপাদন খরচ ও নিম্নমানের চায়ের উৎপাদন প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাজারের মুখোমুখি হওয়া

এবং দাম কম পাওয়া ইত্যাদি সমস্যায় এই চা শিল্পটি ক্রমেই আরোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পরবর্তীতে স্বাধীনতার পর বিভিন্ন প্রতিবেদন ও সুপারিশের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সরকার

(জিওবি) ওডিএ, ইসি এবং জিওবি-র মতো দাতা সংস্থার আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা

নিয়ে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। ব্রিটিশ সরকার চা শিল্পের পুনর্বাসনের জন্য

২৭ মিলিয়ন পাউন্ড স্টার্লিং এবং ইসি ৬.৬ মিলিয়ন ইসিইউ প্রদান করে।

এই তহবিলটি বাংলাদেশ সরকার "বাংলাদেশ চা পুনর্বাসন প্রকল্প (বিটিআরপি)" নামে একটি

১২ বছরের উন্নয়ন কর্মসূচি ১৯৮০ থেকে ১৯৯২ পর্যন্ত অব্যাহত রাখে।

 

বাংলাদেশ চা বোর্ডের (বিটিবি) প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিট (পিডিইউ) ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। 
পিডিইউ-এর কার্যালয় শ্রীমঙ্গল শহর কেন্দ্র থেকে প্রায় ৩ কি.মি. দূরে। 
পিডিইউ যখন কাজ শুরু করে তখন এর দায়িত্ব ছিল 
'ইনটেনসিভ কাল্টিভেশন অফ টি' এবং 'রিপ্লান্টিং অফ টি' 
নামে দুটি অনুমোদিত প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তত্ত্বাবধান করা। 
পরবর্তীতে, যখন বাংলাদেশ চা পুনর্বাসন প্রকল্প (বিটিআরপি) ১৯৮০ সালে শুরু হয়,
পিডিইউ বিটিআরপি-এর অন্যতম উপ-প্রকল্পে পরিণত হয়। 
তখন পিডিইউ -এর দায়িত্ব ছিল নিম্নলিখিত উপ-প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন ও তদারকি করা:

ক্রমিক নং

প্রকল্পের নাম

সময়কাল

পরিমাণ (লক্ষ টাকা)

মাঠ উপ-প্রকল্প

১৯৮০-১৯৯২

৪৮৪৮.১৫

কারখানা উপ-প্রকল্প

১৯৮০-১৯৯২

৩৪৪৫.৮৬

শ্রমকল্যাণ উপ-প্রকল্প

১৯৮০-১৯৯২

১৮৮৬.৭২

বিটিআরআই সম্প্রসারণ উপ-প্রকল্প

১৯৮০-১৯৮৯

১৬৩.০৬

বন উপ-প্রকল্প

১৯৮০-১৯৯২

৩৫.৩৬

ফসল বহুমুখীকরণ এবং জমির বহুমূখী ব্যবহার উপ-প্রকল্প

১৯৮০-১৯৯২

২০৪.০৯

প্রশিক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা উপ-প্রকল্প

১৯৮০-১৯৯২

২৬০৪.৩০

প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিট (পিডিইউ)

১৯৮০-১৯৮৮

২৬৭.১৭

                মোট তহবিলের ব্যবহার                                                                                ১৩৪৫৪.৭১

 পিডিইউ কয়েকটি প্রশাসনিক জেলা জুড়ে পুরো চা শিল্পের জন্য কাজ করে। এছাড়াও, সময়ের সাথে সাথে পিডিইউ 
এর মাধ্যমে নিম্নলিখিত প্রকল্পগুলিও বাস্তবায়িত হয়েছিল।
১) বিটিআরআই-এর অবকাঠামো উন্নয়ন
২) চা বাগানের সংযোগ সড়ক উন্নয়ন।

 

বাংলাদেশ চা বোর্ড, উপরোক্ত উপ-প্রকল্পগুলোর নির্বাহী সংস্থা, বিটিআরপির অধীনে উপ-প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য 
প্রজেক্ট ডেভেলপমেন্ট ইউনিট (পিডিইউ) প্রতিষ্ঠা করেছে। বিটিআরপির সময় পিডিইউ এর উদ্দেশ্যগুলি নিম্নরূপ ছিল:
ক) বিটিআরপি প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ করা;
খ) বিসিএস, বিকেবি, বিটিবি, ইআরডি, ওডিএ পরামর্শদাতা, চা বাগান এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় সাধন করা;
গ) দেশী ও বিদেশী অর্থের ব্যবহারে চা শিল্পকে সহায়তা করা;
ঘ) চা বাগান সম্পর্কে প্রযুক্তিগত জ্ঞান প্রদান করা;
ঙ) এস্টেট উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে সাহায্য করা;
পিডিইউ ১৯৮২ সালে ৫৪ জন জনবল নিয়ে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছিল। ৫৪ জনবলের মধ্যে 
৫১ টি ১৯৮৮ সালের জুলাই মাসে চা বোর্ডের রাজস্ব বাজেটের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং এইভাবে পিডিইউ বিটিবি-এর একটি স্থায়ী সেট-আপ হয়ে যায়। 
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠির স্মারক নং.কম-২২/৮৮ পরিঃ ও উঃ কোষ/ ৬২৩ তারিখ ২৫-২০-৯০ইং, রাষ্ট্রপতির সচিবালয়, 
জনবিভাগের স্মারক নং(প-১)/বিবিধ-১/৮৭-৫৪ তারিখ ১-৩-১৩৯৪ বাং(২৪-৬-৮৭)ইং, সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের 
স্মারক নং সম/সওব্য/টি-৩/পিইসি-৪৪/৮৭-৪৬৭ তারিখ ২৭-৫-৯৬ বাং (১১-৯-৮৯ইং) এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের 
স্মারক নং অমউ-১/বাঃ-৩/বাণিজ্য-১১/৮৮-৮৯/২১৩ তারিখ ২৪-৫-৯৭ বাং (৯-৯-৯০ইং) এবং ১১-৭-৯১ইং তারিখে অনুষ্ঠিত 
বোর্ডের ৩০ তম সভার ৭ নং সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চা বোর্ডের স্মারক নং চা-১৭৪২(৫)/১জি-৩৩/৮৫ তারিখ ১৮-৮-৯৮ বাং (৩-১১-৯১ইং)।
১৯৮৮ সাল থেকে, পিডিইউ বিটিবির মাঠ পর্যায়ের উন্নয়ন অফিস হিসাবে কাজ করে আসছে।

 

পিডিইউ এর প্রধান কার্যক্রম
বাংলাদেশ চা বোর্ডের একটি উন্নয়ন শাখা হিসাবে প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিট নিম্নলিখিত প্রধান কার্যক্রম সম্পাদন করছে:
•  উন্নয়ন কর্মসূচীর বিপরীতে চা বাগানের কর্মক্ষমতা বিষয়ে বার্ষিক পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন পরিদর্শন পরিচালনা।
. ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে চা শিল্পের সাথে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং উচ্চ শিক্ষায় 
আগ্রহী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রশিক্ষণ এবং কোর্স আয়োজন করা।
• বাংলাদেশের বিভিন্ন চা বাগানের মৌলিক তথ্য সংগ্রহ যেমন- জমি, জমির শতকরা ব্যবহার, খালি জায়গা, 
ফলন, উৎপাদন, মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা, শ্রম কল্যাণ এবং চা উৎপাদন ব্যবস্থা ইত্যাদি।
• বিটিবি এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্দেশিত হিসাবে ডিপিপি এবং পিসিপি-এর প্রস্তুতি।
• চা বাগানের মানব সম্পদ প্রশিক্ষণ প্রদান।
• চা বাগানে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান।
• চা বাগানগুলিতে পরামর্শমূলক পরিষেবা প্রদান।
• চা বাগানের জমির ব্যবহার নিশ্চিত করা।
· চা খাতে সরকারের নীতি বাস্তবায়ন করা।
• চা বাগান শ্রমিক এবং তাদের নির্ভরশীলদের জন্য শ্রম-কল্যাণ তহবিল বাস্তবায়নে সহায়তা করা।
• চা শিল্পের উন্নয়নের জন্য চা বাগান থেকে পরিসংখ্যানগত তথ্য সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণ করে নীতি প্রণয়ন।
• বিকেবি-র মতো অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থিক সহায়তা পেতে চা বাগানগুলোকে সহায়তা করা।
• চা বাগানের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা করা।
• চা বাগানের শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবাসহ শ্রম কল্যাণমূলক কর্মকান্ডে সহায়তা করা।
• চা বাগানে রাস্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সহায়তা করা।
• শিক্ষা ট্রাস্ট তহবিলের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা।
• উত্তরবঙ্গ এবং বান্দরবান পার্বত্য এলাকায় ক্ষুদ্র চা চাষ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়তা করা।
• শ্রীমঙ্গলস্থ টি রিসোর্ট এন্ড মিউজিয়াম পরিচালনা করা।

 


Share with :

Facebook Facebook